New Muslims APP

বিজ্ঞান মেনে নিলো রাসূল (সা.)- এর মাছি সংক্রান্ত হাদীস

বিজ্ঞানের মেনে নিলো রাসূল (সা.)- এর মাছি সংক্রান্ত হাদীস

বিজ্ঞানের মেনে নিলো রাসূল (সা.)- এর মাছি সংক্রান্ত হাদীস

বিজ্ঞান মেনে নিলো রাসূল (সা.)- এর মাছি সংক্রান্ত হাদীস

যদি তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পতিত হয় সে যেন উক্ত মাছিটিকে ডুবিয়ে দেয়। কেননা তার একটি ডানায় রোগ জীবাণু রয়েছে, আর অপরটিতে রয়েছে রোগনাশক ঔষধ” (বুখারী)।

৪০ বছর বয়সে হযরত মুহম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে নবুয়্যাত লাভ করেন। নবুয়্যাত পাওয়ার পর থেকে তার (সা.) সাথে সৃষ্টিকর্তা রব্বুল আলামিনের সাথে তৈরী হয় এক অপরূপ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাধারণত মানব জাতির ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান মহান আল্লাহ তার বিশেষ দূত হযরত জিবরাঈল (আ.) এর মারফত রাসুলে পাক (সা.) কে জানিয়ে দিতেন। এসকল ব্যাপার ছাড়াও অনেক সময় রাসুল (সা.) রোগ-বালাইসহ নানা বিষয়েও কথা বলতেন। যেসকল কথা ওই সময় তার পক্ষে জানা কখনই জানা সম্ভব ছিল না যদি না তিনি (সা.) সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রাসুল (সা.) না হতেন।

সম্প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর আগে মাছি প্রসঙ্গে যে কথাটি বলেছিলেন তা আমাদের আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। রাসুলের (সা.) এই কথা প্রমাণ হওয়ার সাথে যদিও তার (সা.) নবী হওয়ার সত্যতা নির্ধারণের কোন সম্পর্ক নেই। কেননা তিনি যে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল (সা.) তা একটি ধ্রুব সত্য। কিন্তু অনেকেই রয়েছেন যারা ‘বিজ্ঞান’ (science) দিয়ে সব কিছুর সত্যতা যাচাই করতে চায় তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে।

বুখারী ও ইবনে মাজাহ হাদীসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ

অর্থ : যদি তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পতিত হয় সে যেন উক্ত মাছিটিকে ডুবিয়ে দেয়। কেননা তার একটি ডানায় রোগ জীবাণু রয়েছে, আর অপরটিতে রয়েছে রোগনাশক ঔষধ” (বুখারী)।

আমাদের মাঝে এমন কি কেউ আছে যে উক্ত রোগের জীবাণুগুলো দেখেছে? আমাদের কেউ কি উক্ত রোগ নাশক ঔষধ অবলোকন করেছে? অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : নিশ্চয়ই তা রয়েছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। সেখানে রোগ রয়েছে মানুষ তা জানতো না। তারা দেখতে পায়, মাছি তার দুই ডানা দিয়ে উড়ে যায়। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতো না যে, তার ভিতরে কল্যাণ রয়েছে, না অকল্যাণ রয়েছে।

জ্ঞান বিজ্ঞানের যখন অগ্রগতি হল, যখন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু সম্পর্কে জ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে বর্ণিত হচ্ছে যে, মাছি মানুষের শত্রু“, সে রোগ জীবাণু বহন করে এবং স্থানান্তরিত করে। মাছির ডানায় রোগ জীবাণু রয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই যদি হয় তাহলে কিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগ জীবাণু বহনকারী মাছিকে ডুবিয়ে নেয়ার আদেশ করলেন?

এ বিষয়ে কিং আব্দুল আজীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উস্তাদ ডক্টর ওয়াজিহ বায়েশরী এই হাদীসের আলোকে মাছিকে নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা চালান। জীবাণুমুক্ত কিছু পাত্রের মাধ্যমে মাছির বাজার থেকে কয়েকটি মাছি ধরে নিয়ে জীবাণুমুক্ত টেষ্ট টিউবের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখেন। তারপর নলটি একটি পানির গ্লাসে উপুড় করেন। মাছিগুলো পানিতে পতিত হওয়ার পর উক্ত পানি থেকে কয়েক ফোটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন যে, সেই পানিতে অসংখ জীবাণু রয়েছে।

তারপর জীবাণুমুক্ত একটি সূঁচ দিয়ে মাছিকে ঐ পানিতেই ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোটা পানি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন যে, সেই পানিতে আগের মত আর জীবাণু নেই, বরং কম। তারপর আবার ডুবিয়ে দেন। তারপর কয়েক ফোটা পানি নিয়ে আবার পরীক্ষা করেন। এমনি ভাবে কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেন যে, যত বার মাছিকে ডুবিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন ততই জীবাণু কমেছে অর্থাৎ ডক্টর ওয়াজীহ এটা প্রমাণ করে দেখিয়েছিন যে, মাছির একটি ডানায় রোগ জীবানু রয়েছে এবং অপরটিতে রোগনাশক ঔষধ রয়েছে। সৌদী আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অষ্টম চিকিৎসা সম্মেলনে কানাডা থেকে দু’টি গবেষণা-রিপোর্ট পাঠিয়েছিল যাতে বর্ণিত ছিল, মাছিতে এমন কোন বস্তু রয়েছে যা জীবাণুকে ধ্বংস করে দেয়। শাইখ মোস্তকা এবং শাইখ খালীল মোল্লা এই বিষয়ে জার্মান ও ব্রিটেন থেকে রিসার্চগুলো ধারাবাহিক সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বই বের করেছেন যার মূল বিষয় ছিল :

  فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً  – ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ

অর্থঃ নিশ্চয়ই মাছির একটি ডানায় রয়েছে রোগ, আর অপরটিতে রয়েছে রোগ নাশক ঔষধ। (বুখারী)

মাছি যখন কোন খাদ্যে বসে তখন যে ডানায় জীবাণু থাকে সে ডানাটি খাদ্যে ডুবিয়ে দেয়। অথচ তার অপর ডানায় থাকে প্রতিরোধক ভাইরাস। যদি মাছিকে ডুবিয়ে দেয়া হয় তাহলে প্রতিরোধক ভাইরাস খাদ্যের সঙ্গে মিশে মারাত্মক জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং খাদ্য স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য অনুকুল থাকে। নতুবা এই খাদ্যই জীবাণুযুক্ত হয়ে মানব ধ্বংসের কারণ হতে পারে। সেই চৌদ্দশত বছর পূর্বে এই ক্ষুদ্র জীবাণু দেখার শক্তি মানুষের ছিল না। অথচ রাসূল (স:) সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সে সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং ঐ বিপদজনক দিক বর্ণনা করেছেন যা আমাদের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকারক।

সেই জাহেলী যুগে এই আশ্চার্যান্বিত তথ্য কে তাঁকে জানিয়ে দিলেন? নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালাই জানিয়ে দিয়েছিলেন। কেননা তিনিই (সা.) আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ পয়গম্বর।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.