New Muslims APP

অপরাধী অপরাধ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ

Handshak-150x150

কোনো অপরাধী তার অপরাধ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ হওয়ার বিষয়টি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ কা‘আব ইব্‌ন মালেক এবং তার সাথীদের সাথে পঞ্চাশ দিন পর্যন্ত সম্পর্ক ছিন্ন রাখেন, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল না করা পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তাদের সাথে কোন কথা-বার্তা বলেন নি।
যয়নব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’, সুফিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা’ কে ইয়াহূদী বলে সম্বোধন করলে প্রায় দুই মাস পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। অনুরূপভাবে এক লোক বিনা প্রয়োজনে একাধিক ঘর নির্মাণ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ সে ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তার সাথে কোনো প্রকার কথা-বার্তা বলেন নি। এক লোক তার দেহকে যা‘ফরান দ্বারা রঙ করলে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তা ধুয়ে তার দাগ না উঠানো পর্যন্ত তার সাথে কথা-বার্তা পরিহার করেন।
এক লোককে রেশমের জুব্বা পরিধান করতে দেখে, তা খুলে ফেলে দেয়া পর্যন্ত তার সাথে কথা-বার্তা বলা ছেড়ে দেন।
এক লোককে স্বর্ণের আংটি পরিধান করতে দেখে, তা খুলে ফেলে দেয়া পর্যন্ত তার সাথে কথা-বার্তা বলা ছেড়ে দেন। সূনানে আবু-দাউদ, তিরমিযী ও মুস্তাদরাকে হাকেমে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে দুটি লাল কাপড় পরিধান করছে। এ কারণে তিনি তার সাথে কথা-বার্তা বলা ছেড়ে দেন।
অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়ীগণ যারা যাদের থেকে গুনাহ প্রকাশ পায়, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের তাওবা কবুল না হত বা তাদের তাওবা প্রকাশ না পেত, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে কথা-বার্তা বলা ছেড়ে দিতেন। আল্লামা ইবনু আব্দিল কাওয়ী রহ. বলতেন, -অর্থ: যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে অপরাধ করে, তার সাথে সম্পর্ক ছেড়ে দেয়া সুন্নত। কেউ কেউ বলেন, তা যদি তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে তাহলে ওয়াজিব ও জরুরি। আবার কেউ কেউ বলেন, [ফিরে আসুক বা নাই আসুক] যতদিন পর্যন্ত সে অপরাধ প্রকাশ করবে, তাকে ছেড়ে দেবে। আর যখন তার সাথে দেখা হবে, তখন চেহারাকে ক্রোধান্বিত ও ক্ষুব্ধ করে রাখবে।
তিনি এখানে যে অপরাধী তার অপরাধকে প্রকাশ করে, তার সাথে কথা-বার্তা ছেড়ে দেয়া সুন্নত হওয়ার বিষয়ে কোনো ইখতেলাফ বা মতবিরোধ উল্লেখ করেন নি। তার সাথে কথাবার্তা ছেড়ে দেয়াতে সে গুনাহ থেকে ফিরে আসুক বা নাই আসুক তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে ছেড়ে দেয়া ওয়াজিব কিনা? এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে একাধিক মতামত পরিলক্ষিত। কেউ কেউ বলেন, কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই তার সাথে কথা-বার্তা বলা ছেড়ে দিতে হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, যদি তার সাথে কথা-বার্তা ছেড়ে দেয়া দ্বারা সে গুনাহ হতে ফিরে আসে তখন তার সাথে কথা-বার্তা ছেড়ে দেবে, অন্যথায় নয়। হাফেয ইবনে হাজার রহ. ফাতহুল বারীতে বলেন, অধিকাংশের মতে ফাসেক ব্যক্তিকে সালাম দেয়া যাবে না এবং বিদ‘আতিকে সালাম দেয়া যাবে না।
ইমাম নববী রহ. বলেন, যদি সালাম দিতে বাধ্য হয়, যেমন- যদি সালাম না দেয়, তাহলে দুনিয়াবি অথবা দীনি কোনো ক্ষতির আশংকা করে, তখন সালাম দেবে। একই কথা আল্লামা ইবনুল আরাবী রহ. ও বলেন, তবে তিনি বলেন, সালাম দেয়ার সময় এ কথা নিয়ত করবে যে সালাম আল্লাহর নামসমূহ হতে একটি নাম। আল্লাহ্ তা‘আলা তোমার উপর পাহারাদার।
মুহাল্লাব রহ. বলেন, যারা অপরাধ করে তাদের সালাম না দেয়ার রীতি-নীতি চলমান পদ্ধতি। অনেক আহলে ইলমগণ বিদ‘আতিদের সম্পর্কে এ ধরনের সিদ্ধান্তই দিয়েছেন। এ ছাড়া অনেক হানাফী আলেমগণ, অপরাধী বলতে তাদের বুঝান, যারা মানবতা ও স্বাভাবিক সংস্কৃতি বিরোধী অপরাধ করে। যেমন, যে ব্যক্তি অধিক উপহাস করে, খেল-তামাশায় লিপ্ত থাকে, অশ্লীল কথা-বার্তা বলে, মেয়েদের দেখার জন্য রাস্তায় বসে থাকে ইত্যাদি।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.