ইসলামের সামাজিক বিধান (১ম পাঠ)

images
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই তাকে বাস করতে হয়। সমাজে একে অপরের সহযোগী হয়ে জীবনের পথ চলতে হয়। তাই সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানবতার দ্বীন ইসলাম এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিধি-বিধান বর্ণনা করেছে।
ইসলাম যেমনিভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নফল ছিয়াম, যিকির, তাসবীহ-তাহলীলের মত ইবাদতে উৎসাহ দিয়েছে, তেমনি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে ও ইবাদত হিসাবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ সকল সামাজিক কার্যক্রমে অনেক দ্বীনদার মানুষকেও তৎপর দেখা যায় না। তাই এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কিছুটা আলোকপাত করা হ’ল- আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
‘সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, তোমরা পূর্ব ও পশ্চিমে মুখ ফিরাবে বরং সৎ কাজ হ’ল, যে ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, পরকালের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত কিতাব ও নবী-রাসূলগণের উপর। আর সম্পদ ব্যয় করবে তারই মহববতে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম মিসকীন, মুসাফির, ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্য। আর যারা ছালাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে এবং যারা কৃতপ্রতিজ্ঞা পালনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণকারী; তারাই সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই আল্লাহভীরু’ (বাক্বারাহ ১৭৭)।
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাক্বী তথা আল্লাহভীরুদের গুণাবলীতে একদিকে যেমন ঈমান ও ছালাতের মত মৌলিক ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন, তেমনি অন্যদিকে তিনি যাকাত এবং সমাজের অসহায় নিঃস্বদের সাহায্য-সহায়তার মত সামাজিক কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেছেন। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনও ইবাদত হিসাবে গণ্য হবে। নিম্নে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সামাজিক বিষয় আলোচিত হ’ল।
(১) অসহায়দের সাহায্য-সহায়তা : সমাজের বিধবা, ইয়াতীম ও দুঃস্থদের সাহায্য-সহযোগিতা করা বড় ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি বিধবা ও মিসকীনদের সমস্যা সমাধানের জন্য ছুটোছুটি করে সে যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে লিপ্ত। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একথাও বলেছেন, সে যেন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে সারা রাত ছালাত আদায় করে এবং সারা বছরই ছিয়াম পালন করে’।)বুখারী হা/৫৩৫৩; মুসলিম হা/২৯৮২ (
(২) রোগীর খোঁজ-খবর নেয়া : সমাজের কেউ অসুস্থ হ’লে তার খোঁজ-খবর নেয়া একজন মুসলিমের অন্যতম দায়িত্ব। রুগ্ন ব্যক্তির দেখা-শোনার বিষয়টি ইসলামী শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর, রুগ্ন ব্যক্তির দেখাশুনা কর এবং বন্দীকে মুক্ত কর’। বুখারী, মিশকাত, হা/১৫২৩। অন্যত্র তিনি বলেন, َ ‘রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাবে এবং জানাযার অনুসরণ করবে (কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করবে), তাহ’লে তা তোমাকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে’।) সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৯৮১ ( এটা বিরাট পূণ্যের কাজও বটে। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,
‘একজন মুসলিম যখন তার কোন রুগ্ন মুসলমান ভাইকে দেখতে যায় তখন সে যেন জান্নাতের বাগানে ফল আহরণ করতে থাকে, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে’।) মুসলিম হা/২৫৬৮; মিশকাত হা/১৫২৭ (অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘কোন ব্যক্তি যখন রোগীকে দেখতে যায়, তখন সে জান্নাতের উদ্যানে ফল আহরণ করতে থাকে। বলা হ’ল, হে রাসূল (ছাঃ)! খুরফা কি? তিনি বললেন, জান্নাতের ফল’।)মুসলিম হা/২৫৬৮।( রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি কোন রুগীর পরিচর্যা করে, সে রহমতের মধ্যে ডুব দেয়, এমনকি সে যখন সেখানে বসে পড়ে, তখন তো রীতিমতো রহমতের মধ্যেই অবস্থান করে’। ) আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৫২২, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন,
‘কোন ব্যক্তি কোন রুগ্ন ব্যক্তির পরিচর্যা করলে অথবা আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার কোন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে, একজন আহবানকারী (অন্য বর্ণনায় রয়েছে আল্লাহ তা‘আলা) তাকে ডেকে ডেকে বলে, তুমি উত্তম কাজ করেছ, তোমার পদচারণা উত্তম হয়েছে এবং জান্নাতে তুমি একটি ঘর তৈরি করে নিয়েছ’।) মিশকাত হা/৫০১৫। ( অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
‘এমন কোন মুসলমান নেই যে সকাল বেলা কোন মুসলমান রোগীকে দেখতে যায়, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাযার ফেরেশতা দো‘আ না করে। আর সন্ধ্যা বেলা কোন রোগী দেখতে যায়, সকাল পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাযার ফেরেশতা দো‘আ না করে। আর তার জন্য জান্নাতে একটি ফলের বাগান সুনির্ধারিত করে দেয়া হয়’।(তিরমিযী হা/৯৬৯রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/৯০০।

Related Post